IQNA

  ঈদে গাদীর খুম: ইসলামের পূর্ণতা ও আলী (আ.)-এর ভিলায়াতের মহান ঘোষণা

22:27 - June 07, 2026
সংবাদ: 3479275
  ১৮ যিল হজ্জ ঈদ-ই গাদীরের আন্তরিক শুভেচ্ছা,তাবরীক (মুবারক বাদ) ও তাহনিয়ত। ১৮ যিলহজ্জ ঈদে গাদীরে খুম (عید غدیر خم ) অর্থাৎ ঈদুল ভিলায়াহ (عید الولایة) ঈদুল্লাহিল আকবার (আল্লাহর মনোনীত সর্ববৃহৎ ও সর্বোত্তম ঈদ) মুবারক।

আস'আদাল্লাহু আইয়ামাকুম;দুমতম বিখাইরিঁও ওয়া আফিয়াহ্ (أسعد الله أیامکم دمتم بخیر و عافیة) মহান আল্লাহ কল্যাণ সুস্থতা প্রদান করে আপনাদের জীবনের জীবনের দিনগুলো সৌভাগ্য মণ্ডিত করে দিন।আপনারা কল্যাণ সুস্থতার ওপর স্থিত থাকুন।

কুল্লা আমিঁও ওয়া আনতুম বিখাইরিও ওয়া আফিয়াহ্ (کل عام وانتم بخیر و عافیة) প্রতি বছর আপনারা কল্যাণ,সুখ সুস্বাস্থ্যের ওপর বহাল থাকুন।

হিজরী দশম সালের এই দিন (১৮ যিল হজ্জ) বিদায় হজ্জ শেষে পবিত্র মদীনা মুনাওওয়ারায় প্রত্যাবর্তন কালে

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ ۖ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ۚ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ

"হে রাসূল! আপনার প্রভুর তরফ থেকে ( আলী ইবনে আবী তালিবের ইমামত,ভিলায়ত নেতৃত্ব,অভিভাবকত্ব কর্তৃত্ব সম্পর্কে) যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা প্রচার করুন;আর যদি তা না করেন তাহলে আপনি তাঁর (মহান আল্লাহর) রিসালাত বাণী প্রচার করেন নি;আর মহান আল্লাহ আপনাকে জনগণের ক্ষতি অনিষ্ট থেকে  অবশ্যই রক্ষা করবেন; নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কাফির (অবিশ্বাসী) সম্প্রদায় কওমকে হিদায়ত (পথপ্রদর্শন) করেন না (সূরা- মায়েরা:৬৭)"-- আয়াতটি

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (নাযিল) হলে

মহানবী (সা) পবিত্র মক্কা নগরীর অদূরে জুহফার গাদীরে খুম (খুমের জলাশয় বা নদী) নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করে দুপুরের তীব্র ঊষ্ণ রৌদ্রতাপের মধ্যে এক বিশাল সমাবেশে মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যত নেতা,অভিভাবক কর্তৃপক্ষের ঘোষণা দান করে বলেন:"আমি যার মাওলা (নেতা,অভিভাবক কর্তৃপক্ষ) এই আলী তার মাওলা (নেতা, অভিভাবক কর্তৃপক্ষ);হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি তাঁকে ভালবাসে তাকে আপনি ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে আপনিও তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন।

(মান্ কুনতু মাওলাহু ফাহাযা আলীউন্ মাওলাহ্،আল্লাহুম্মা ওয়ালি মান্ ওয়ালাহু ওয়া 'আদি মান্ আদাহ্।)

من کنت مولاه فهذا علي مولاه اللهم وال من والاه و عاد من عاداه.....

সুনান- ইবনে মাজায় (পৃ:৩০) হযরত আলী ইবনে তালিবের (রা.) ফাযায়েল সংক্রান্ত অধ্যায়ে হাদীস নং ১১৬: বার্রা ইবনে আযিব বলেন:আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে যে হজ্জ তিনি (সা) পালন করেন সেই হজ্জে (বিদায় হজ্জ) তাঁর (সা) সাথে আমরা হজ্জ ব্রত পালন করতে যাই।হজ্জব্রত পালনের পর রওয়ানা হই (মদীনা শরীফের দিকে) এবং পথিমধ্যে আমরা যাত্রা বিরতি করি। তিনি (সা) জামাতের সাথে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন।অত:পর তিনি (সা) আলীর হাত ধরে বললেন:"আমি কি মু'মিনদের কাছে তাদের নিজেদের চাইতেও তাদের জীবনের ব্যাপারে অধিক অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হকদার নই?" তখন সবাই বলল:জী, হ্যাঁ। তিনি (সা:) বললেন:আমি কি প্রত্যেক মু'মিনের কাছে তাঁর নিজের চাইতেও অধিক অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হকদার নই?"তখন সবাই বলল:'হ্যাঁ। তিনি (সা) বললেন:''আমি যার মাওলা (আলী) তাঁর ওয়ালী।হে আল্লাহ! আপনি তাকেই ভালবাসুন যে তাঁকে (আলীকে) ভালবাসে। হে আল্লাহ! তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন যে তাঁর (আলী) সাথে শত্রুতা পোষণ করে।(আল্লামাহ আলবানীর গবেষণা কৃত সহীহ ইবনে মাজায় হাদীসটি সহীহ বলা হয়েছে।)

عن البراء بن عازب،قال:أقبلنا مع رسول الله (ص) في حجته التي حجّ.فنزل في بعض الطریق.فأمر بالصلاة جامعةً.فأخذ بید علي,فقال:«ألست أولیٰ بالمؤمنین من أنفسهم؟»قالوا:بلیٰ.قال:«ألست أولیٰ بکار مؤمن من نفسه؟»قالوا:بلیٓ.قال:«فهذا ولي من أنا مولاه.اللهم وال من والاه.اللهم عاد من عاداه.

 

আর হযরত আলীর ভিলায়ত ইমামতের এই মহা ঘোষণার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর ধর্ম দ্বীন এবং নেয়ামতের পূর্ণতা বিধান ( ইকমালুদ্দীন ওয়া ইতমামুন্ নি'মাহ্) করে আয়াত নাযিল করেন গাদীরে খুমের মহাবিশাল সমাবেশে:

 الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَ أَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَ رَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينا

যারা কুফর করেছে তারা (অর্থাৎ কাফিরগণ) আজ তোমাদের দ্বীনের (ধর্ম) ব্যাপারে হতাশ নিরাশ হয়ে গেছে (হযরত আলীর ভিলায়ত ইমামতের ঘোষণা দানের মাধ্যমে;কারণ মহান আল্লাহ এই দিবসে মহানবীর (সাঃ) পরে ইসলাম মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যত ইমাম,নেতা,ওয়ালী, পথপ্রদর্শক অর্থাৎ হাদী কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট করে নিযুক্ত করেছেন); অতএব তাদেরকে (কাফিরদেরকে) তোমরা ভয় করো না এবং আমাকে তোমরা ভয় কর;আজ আমি (মহান আল্লাহ) তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতের পূর্ণতা বিধান করলাম এবং তোমাদের জন্য একমাত্র (মনোনীত) ধর্ম হিসেবে ইসলামের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলাম (সূরা- মায়েদা:)

আয়াত নাযিল হলে মহানবী (সা) বললেন:আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে মহান) আলী ধর্মের পূর্ণতা (ইকমালুদ্দীন/কামালুদ্দীন), নেয়ামতের পূর্ণতা (ইতমামুন নি'মাহ্/ তামামুন নি'মাহ্),আমার রিসালতের ব্যাপারে আমার প্রভুর সন্তুষ্টি এবং আমার পরেই হচ্ছে আলীর ভিলায়ত ( ইমামত অর্থাৎ নেতৃত্ব,অভিভাবকত্ব কর্তৃত্ব)

এরপর সেখানে উপস্থিত জনতা আমীরুল মু'মিনীন হযরত ইমাম আলীকে () অভিনন্দন জানাতে লাগলো এবং সাহাবাদের মধ্যে যারা সবার আগে ইমাম মাওলা আলীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তারা হলেন শাইখাইন হযরত আবূ বকর (রা.) হযরত উমর (রা.) এবং তাঁরা দুজনেই বলেছিলেন:

বাখ্খিন্ বাখ্খিন্ লাকা ইয়াবনা আবী তালিব আসবাহতা ওয়া আমসাইতা মাওলায়া ওয়া মাওলা কুল্লি মু'মিনিও ওয়া মু'মিনাহ্।

بخٍّ بخٌٍ لک یا بن أبي طالب أصبحت و أمسیت مولاي و مولی کل مؤمن و مؤمنة.

হে ইবনে আবী তালিব (আলী) আপনাকে অভিনন্দন! আপনাকে অভিনন্দন!

কারণ,আপনি সকাল-সন্ধ্যায় অর্থাৎ সার্বক্ষনিক ভাবে (সব সময়ের জন্য) আমার প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর মাওলা (ইমাম,নেতা, অভিভাবক কর্তৃত্বশীল কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত মনোনীত) হয়েছেন!!!

তাই দিবসে (১৮ যিল হজ্জ) একে অপরের  জন্য নিম্নোক্ত এসব দুআ করা অভিনন্দন জানানো মুস্তাহাব:

الحمد للّٰه الّذي جعلنا من المتمسکین بولایة امیر المومنین و الأئمّة علیهم السلام.

*সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি আমাদেরকে যারা ইমাম আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলীর (.) ভিলায়ত (ইমামত) এবং (মহানবীর সাঃ পবিত্র আহলুল বাইতের .) ইমামদের ভিলায়তকে (ইমামত) আঁকড়ে ধরেছে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

*সকল প্রশংসা (হ়ামদ) মহান আল্লাহর যিনি দিবসের মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন এবং  যারা উম্মাহর সকল বিষয়ের কর্তৃপক্ষ পরিচালনা কারী এবং ঐশী ন্যায়বিচার (কিসত আদল) প্রতিষ্ঠা কারী তাদের ভিলায়ত ইমামতের (নেতৃত্বে, অভিভাবকত্ব কর্তৃত্ব) প্রতি নিবেদিত নিষ্ঠাবান থাকা সংক্রান্ত যে আহদ্ (প্রতিজ্ঞা প্রতিশ্রুতি) মহান আল্লাহ আমাদের থেকে নিয়েছেন তা এবং যে অঙ্গীকার (মীসাক্ব) আমাদের কাছে মহান আল্লাহ আমানত স্বরূপ দিয়েছেন তা যারা  সংরক্ষণ নিষ্ঠার সাথে পালন করেন  তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।আর তিনি আমাদেরকে অস্বীকার কারী নাস্তিকদের এবং কিয়ামত দিবস প্রত্যাখ্যান কারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন নি।

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَكْرَمَنَا بِهَذَا الْيَوْمِ وَ جَعَلَنَا مِنَ الْمُوفِينَ بِعَهْدِهِ إِلَيْنَا

وَ مِيثَاقِهِ الَّذِي وَاثَقَنَا بِهِ مِنْ وِلاَيَةِ وُلاَةِ أَمْرِهِ وَ الْقُوَّامِ بِقِسْطه

وَ لَمْ يَجْعَلْنَا مِنَ الْجَاحِدِينَ وَ الْمُكَذِّبِينَ بِيَوْمِ الدِّين‏.

*সকল প্রশংসা (হামদ) মহান আল্লাহর যিনি আলী ইবনে আবী তালিবের ভিলায়তের (নেতৃত্ব,ইমামত কর্তৃত্বশীল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবকত্ব) মাধ্যমে স্বীয় দ্বীন ধর্মের পূর্ণতা বিধান এবং স্বীয় নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন।

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ جَعَلَ کَمَالَ دِیْنِهِ وَ تَمَامَ نِعْمَتِهِ بِوِلَایَةِ عَلِيِّ بْنِ َابِيْ طَالِبٍ عَلَیْهِ السَّلَامُ.

হযরত ঈসা () এবং তার হাওয়ারীদের ওপর আসমানী খাবার (মায়েরা) অবতীর্ণ নাযিল হওয়ার দিবস যদি পবিত্র কুরআন এবং  হযরত ঈসার () কাছে ঈদ বলে গণ্য হয় তাহলে প্রাধান্য অগ্রাধিকার প্রদানের সূত্র (কায়েদাতুল ফাহওয়াল আওলাভীয়াহ্) অনুযায়ী যে দিবসে মহান আল্লাহ কর্তৃক দ্বীন- ইসলামের পূর্ণতা বিধান নেয়ামত সম্পূর্ণ এবং ইসলামকে মুসলিম উম্মাহ সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র দ্বীন মনোনীত করা হয়েছে নি:সন্দেহে তা (সেই দিবস অর্থাৎ ১৮ যিল হজ্জ) হবে সবচেয়ে বড় ঈদের দিন।কারণ ইসলাম, আসমানী খাবার মায়েদার চাইতেও অধিক সম্মানিত উত্তম এবং সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক ঐশী রূহানী নেয়ামত।আর দিবসটিকে ঈদোৎসব হিসাবে পালন হবে স্বয়ং পবিত্র কুরআন কর্তৃক মনোনীত বৃহৎ স্মরণীয় মহা ঘটনার স্মরণে উৎসব উদযাপনের বৈধতা যা হযরত ঈসা তার উম্মাতকে আসমানী খাবার অবতীর্ণ নাযিল হওয়ার মহা ঘটনাকে ঈদ হিসাবে পালন উদযাপনের বৈধতা দান কারী। হযরত ঈসা () আসমানী খাবার মায়েদা অবতীর্ণ নাযিল হওয়াটাকে তার নিজের তাঁর উম্মতের জন্য যে ঈদ বলে গণ্য করেছেন তা পবিত্র কুরআনের সূরা- মায়েদার ১১৪ নং আয়াতে স্পষ্ট উল্লেখিত হয়েছে। সুতরাং দ্বীন উম্মতের সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট কোন স্মরণীয় ঘটনা দিবস স্মরণ,পালন উদযাপন আসলে পবিত্র কুরআনের স্বীকৃত প্রথা এবং নবীদের সুন্নত।

আয়াতটি:

قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِين[ المائدة: 114]

হযরত ঈসা ইবনে মারয়াম বললেন: হে আল্লাহ!হে আমাদের প্রভু!আপনি আমাদের ওপর আসমানী খাবার নাযিল (অবতীর্ণ) করুন যা হবে আমাদের প্রথম সর্বশেষ ব্যক্তির জন্য ঈদ্ (মহোৎসব) এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (আয়াত);আর আমাদেরকে আপনি রিযিক রূযী প্রদান করুন এবং আপনি সর্বোত্তম রিযিক দাতা (রিযিকদাতাদের মধ্যে সর্বোত্তম) (সূরা- মায়েরা:১১৪)

আর কারণেই দিবস (১৮ যিল হজ্জ) মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলুল বাইতের () কাছে ঈদুল্লাহিল্ আকবার ( মহান আল্লাহর মনোনীত সবচেয়ে বড় ঈদ) গণ্য পালিত হয়েছে।আর মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলুল বাইত () এবং পবিত্র কুরআন হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর কাছে মহানবীর (সা) অতি ভারী দুটো আমানত (সাকালাইন) মুতাওয়াতির অকাট্য হাদীস- সাকালাইন অনুযায়ী যা [ দুই ভারী আমানত: পবিত্র কুরআন মহানবীর (সাঃ) পবিত্র আহলুল বাইতকে ()] দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উম্মাতকে।

আমরাও মহানবীর (সাঃ) পবিত্র দুই আমানত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে অনুসরণ করে ১৮ যিল হজ্জ ঈদ- গাদীর- খুম পালন করব।আর নি:সন্দেহে ঈদ- গাদীর উদযাপন হচ্ছে মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি তাযীম (সম্মান প্রদর্শন) যা অন্তর সমূহের তাকওয়া সঞ্জাত।আর নিঃসন্দেহে ইসলাম,পবিত্র কুরআন,হযরত আলী () এবং মহানবীর পবিত্র আহলুল বাইত () হচ্ছেন মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

যালিকা ওয়া মান ইয়ুআযযিম শা'আয়িরাল্লাহি ফাইন্নাহা মিন তাক্বওয়াল্ ক্বুলূব্

 ذَلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ

এটাই হচ্ছে হজ্জ সংক্রান্ত মহান আল্লাহর নির্দেশাবলী বিধিমালা এবং যে মহান আল্লাহর নিদর্শন সমূহের তাযীম (সম্মান ভক্তি শ্রদ্ধা প্রদর্শন) করে তাহলে এটা হবে অন্তর সমূহের তাক্বওয়া সঞ্জাত (সূরা- হজ:৩২)

মহান আল্লাহর নিদর্শনাবলী তাযীম না করলে অন্তরের তাক্বওয়া বিকশিত হাসিল হবে না। অন্তরের তাক্বওয়া হাসিল বিকশিত না হলে আখেরাতে নাজাত মুক্তিও সম্ভব হবে না।তাই আল্লাহর নিদর্শন আয়াত সমূহের প্রতি বেয়াদবী,অভক্তি,অশ্রদ্ধা বিতৃষ্ণা প্রদর্শন নি:সন্দেহে তাক্বওয়া পরিপন্থী এবং তা পারলৌকিক আযাব শাস্তির কারণ হবে।

আর নি:সন্দেহে ঈদ- গাদীর পালন উদযাপন মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন সমূহের প্রতি ভক্তি,তাযীম শ্রদ্ধা প্রদর্শন যা অন্তর সমূহের তাক্বওয়া সঞ্জাত।

মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

তথ্য সূত্র সমূহ:

.পবিত্র কুরআন

.সুনান- ইবনে মাজাহ,প্রকাশক:দার ইহয়াইত্ তুরাসিল্ আরাবী,বৈরুত, লেবানন

. মাফাতীহুল জিনান

captcha